শ্রীশ্রীরাধাষ্টমী

শ্রীশ্রীরাধাষ্টমী মহাভাবরূপিনী কৃষ্ণপ্রিয়া পরাভক্তিপ্রদায়িনী শ্রীমতী রাধারাণীর প্রাকট্য দিবস।

 

শ্রীরাধাষ্টমী গুরুপূজা

শ্রীরাধাষ্টমী দর্শন ও মা গঙ্গা পূজন : শ্রীশ্রীকাঠিয়াবাবা সাধনসেবাশ্রম

শ্রীধাম বৃন্দাবন আশ্রমের সেবাপূজার নির্ঘন্ট-

শ্রীশ্রী ধনঞ্জয় দাস পত্রামৃত

ওঁ হরিঃ
শ্রীবৃন্দাবন
১৬/৪/৪৫
পরমকল্যাণবরেষু–
প্রিয়–
তোমার পত্র পাইয়াছি…. প্রারব্ধে যাহার যাহা আছে, তাহা কেহই খণ্ডন করিতে পারে না। ভগবৎ বিধানের উপর মহাপুরুষগণ হাত দেন না। ভগবানের বিধানের উপর যাহাদের বিশ্বাস না থাকে তাহারাই দৌড়াদৌড়ি করিয়া অধিক অশান্তি ভোগ করে। নিজের অন্তরকে শুদ্ধ করিয়া পবিত্রভাবে ভগবদ্বিধান গ্রহণ করার অভ্যাস না করিলে কখনও শান্তি আসিতে পারে না। নিজেরই কর্ম্মের দোষে দুর্ভোগ ও আর্থিক অভাবজনিত ক্লেশভোগ আসিয়া থাকে, কেহ তাহা দূর করিয়া দিবেন এইরূপ মনে করা ভ্রম। অবশ্য তোমার যদি আশা থাকে ও বিশ্বাস কর তবে তুমি যেরূপ ভাবে দেখিতে ইচ্ছা করিতেছ দেখিতে পার।…. শেষ রাত্রে মুখ হাত ধুইয়া শুদ্ধ বস্ত্র পরিয়া জপ করিতে পার। ইতি–
আশীর্ব্বাদক
শ্রীধনঞ্জয়দাস

অনুলিখন- শ্রী বিশ্বনাথ রায়

श्रीश्री सन्तदास महावाणी

प्रार्थना अत्यन्त उपयोगी है। अत्यन्त भाग्यशाली पुरुषको ही संकट आनेपर तथा अभाव आदि के समयपर यथार्थरुपसे प्रति प्रार्थना करनेकी प्रवृत्ति होती है। भगवानको जो अपना मानते है एवं सोचते है वे सर्वदा साथमें ही है एवं दुःख दूर करनेमें समर्थ है — इस बातको जिन्हों ने भीतरसे धारण कर लिया है वे ही अभावबोध भगवानको ज्ञापन कराते हैं। ज्ञापन कराते समय भगवत् सान्निध्यवोध उनको अवश्य होता है। अतः यह उनके विशेष कल्याण का कारण ही है। उनकी प्रार्थना भगवान तुरन्त ही पुर्ण नहीं करते, यह बात सच है, प्रार्थना स्वयं एवं जगत कल्याणार्थ न होनेपर यह सफलयोग्य नहीं है। परंतु प्रार्थना साथसाथ पुर्ण न होनेपर भी चिंता के द्वारा भी भगवत्संग लाभ किया जाता है। इससे जीवका चित्त शुद्ध होने लगता है एवं यह उनके लिए अत्यन्त कल्याणकारी होता है। जिनका चित्त निर्मल होता है उनके मनमें कोई प्रार्थना उदित होनेसे यह कल्याणात्मक ही होता है, एवं वह तुरंत ही पुर्ण भी होता है, इसमें भगवानका कोई पक्षपातदोष नहीं है,चित्त शुद्धि के ऊपरही यह सामान्यतः निर्भर करता है।

শ্রীধনঞ্জয় দাস পত্রামৃত

ওঁ হরিঃ
শ্রীবৃন্দাবন
১৭/১০/৪০
পরমকল্যাণবরেষু
প্রিয় !
….
উপদেশমত নিয়মানুসারে স্থিরচিত্তে ভজন করিতে থাকিলে ধীরে ধীরে ভক্তি ও বিশ্বাস আসিতে থাকিবে। বহু জন্মের সংস্কারের দ্বারা চিত্ত কলুষিত হইয়া আছে, ভজন করিতে করিতে সেই সংস্কারের ময়লা দূরীভূত হইয়া যে পরিমাণে চিত্ত নির্ম্মল হইতে থাকিবে, সেই পরিমাণে ভক্তি ও বিশ্বাস গাঢ় হইতে থাকিবে। ব্যস্ত হইওনা। স্থিরচিত্তে ভজন করিতে অভ্যাস কর, শ্রীভগবৎকৃপায় কল্যাণ লাভ করিবে। যিনি যত ব্যস্ত হইবেন, তাহার তত বিলম্ব হইয়া যাইবে। সব অবস্থাই ভগবদ্দত্ত-জ্ঞানে গ্রহণ করিয়া, সর্ব্বদা চিত্তকে প্রসন্ন রাখিতে অভ্যাস যিনি করেন এবং গুরূপদিষ্ট মার্গে চলিতে থাকেন, তিনি খুব শীঘ্র শীঘ্র সাধনপথে অগ্রসর হয়েন। “পত্রাবলী” মধ্যে মধ্যে পড়িয়া উপদেশানুসারে চলিতে অভ্যাস করিবে।

মাথা নীচে রাখিয়া এবং পা উপরে তুলিয়া ধ্যান করিলে আধঘণ্টায় সমাধি হয় এইরূপ কেহ বলিয়াছে লিখিয়াছ। এইরূপ সম্ভব হইলে সমাধিসম্পন্ন পুরুষে সংসার ভরিয়া যাইত। তাহা হইলে মুনি ঋষিরা সহস্র সহস্র বৎসর ধরিয়া এত কষ্টের সহিত সাধন করিতে যাইতেন না। এইরূপ কথা শুনিয়া তোমার মত লোকও ভুলিয়া যাও ইহা ভাল নহে। এইরূপ কাহারও কথায় কোন সময় পড়িয়া গেলে অনেক সময় মহা বিপদে পড়িতে হইতে পারে। খুব সাবধানে চলিবে। যাহার তাহার উপদেশ গ্রহণ করিতে যাইও না। তুমি যেরূপ উপদেশ পাইয়াছ‌ এবং পত্রাবলী প্রভৃতিতে যে উপদেশ আছে তৎসমস্ত অবলম্বন করিয়া চলিবে। শ্রীভগবানের উপর নির্ভর করিয়া স্থির-ধীর ভাবে ঋণ পরিশোধের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিতে থাক। ভগবদ্দিচ্ছা হইলে তাঁহার কৃপা আসিয়া সাহায্য করিতে পারে। তোমরা কল্যাণ লাভ কর এই ইচ্ছা করি। তোমরা সকলে আমার আশীর্ব্বাদ জানিবে। ইতি-
আশীর্ব্বাদক
শ্রীধনঞ্জয়দাস

অনুলিখন- শ্রী বিশ্বনাথ রায়।

श्रीश्री सन्तदास महावाणी

आश्रित शब्द का अर्थ है,जिन्होने आश्रय ग्रहण किया है। जिस व्यक्ति स्वयं अपना कर्तृत्व त्यागकर, खुदके ऊपर निर्भर न करते हुए गुरुके प्रति सम्पूर्ण निर्भर करते है, जिनको किसी कार्य के प्रति अभिमान नहीं है, आदेशपालन ही जिनका एकमात्र लक्ष्य है, वे तो मुक्त ही हो गए। उनको कर्म की वशमें आकर इसलोकमें आनेकी कोई सम्भावना नहीं है। यमदूतके साथ उनका कोई सम्पर्क होता ही नहीं।

भाषान्तर-श्रीमती शिखा कर

Vani Manjari

We wail and weep so much for our mortal affiliation and belongings, if only we could feel the same intense yearning for Bhagvan Sri Krishna-it would have paved the way to Lord and made our Human birth worthy and complete.
All kind of worldly hankering and longing comes to an end for the individual soul when it meets the Supreme soul. Unprecedented fulfilment, peace and bliss unfolds for the Jeeva with this propitious union with the Divine.

Sadgurudev Swami Rash Behari Das Kathia Baba Maharaj.

শ্রীশ্রীধনঞ্জয় দাস পত্রামৃত

ওঁ হরিঃ
পোঃ ও জিলা খুলনা
৫/২/৪০

পরম কল্যাণীয়াসু–
মাই ! অদ্য তোমার পত্র পাইলাম ।…. তোমার প্রশ্নের উত্তর নিম্নে লিখিতেছি ।
(১) হরি ও হর একই ভগবানের ভিন্ন রূপ, – ইহাই সত্য। বৈষ্ণবের দেবী পূজা দর্শনে বা প্রসাদ গ্রহণে দোষ নাই। তবে মাংসাদি বা তৎসংশ্লিষ্ট প্রসাদ বৈষ্ণব গ্রহণ করিবেন না।
(২) মালা তিলকাদি ধারণের উপদেশ যে গুরু করিয়া থাকেন তাহার বিশেষ ফল আছে; কোনও দীক্ষিত ব্যক্তি যদি গুরুর এই উপদেশ শ্রদ্ধার সহিত গ্রহণ না করেন বা তাহার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বাস না করেন, তবে তাহার পক্ষে দীক্ষা না লওয়াই উচিত ছিল। দীক্ষা লওয়ার পর গুরুবাক্যের প্রতি অবহেলা করিয়া তাহা ধারণ না করিলে, অপরাধই হয় এবং সাধনে অগ্রসর হইতে পারে না । ভগবান তাহার প্রতি অপ্রসন্ন হইয়া যান। তুমি এই বিষয় লইয়া বিচার করিতে যাইও না, তুমি যেরূপ উপদেশ পাইয়াছ‌ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হইয়া তাহা পালন‌ করিতে চেষ্টা করিবে । এই বিষয়ে সাক্ষাৎ আলাপ হইলে ভালরূপে তোমাকে বুঝাইয়া দিতে পারিতাম । পত্রে আর অধিক লেখা যায় না ।….
বাহিরের নিন্দাস্তুতি মান‌ অপমান অগ্রাহ্য করিয়া নিশ্চলভাবে গুরুপদেশানুসারে ভজন করিয়া যাও , কল্যাণ লাভ হইবে।
প্রথমতঃ কিছুদিন দৃঢ়ভাবে নিয়ম নিষ্ঠা পালন করিলে লোকের ভাবের পরিবর্ত্তন হইয়া যায়, যে ব্যক্তি অবজ্ঞার ভাব দেখায়, সেই আবার তাহার‌ প্রতি ভক্তিসম্পন্ন হইয়া যায় ।
….অত্র মঙ্গল । ইতি–
আশীর্ব্বাদক
শ্রীধনঞ্জয়দাস

অনুলিখন- শ্রী বিশ্বনাথ রায়।

শ্রীশ্রী ১০৮ স্বামী ধনঞ্জয় দাস কাঠিয়া বাবা পত্রামৃত

ওঁ হরিঃ
৪/৯/৪২
পরমকল্যাণবরেষু–

তুমি ও বাটীস্থ সকলে আমার আশীর্ব্বাদ জানিবে । ভ্রূযুগলের মধ্যে যেরূপ ধ্যান ও জপ করিতে বলিয়াছি তদ্রূপই করিবে, অধিকন্তু তৎসহ ব্যাপক ব্রহ্মের ধ্যান করিতে পারিলে তাহাও করিবে। সহস্রারে ধ্যান করিলে মাথা গরম হইতে থাকিবে ও যন্ত্রণা হইতে পারে এবং কঠিন রোগের সম্ভাবনা থাকে; অতএব তুমি সহস্রারে ধ্যান করিতে যাইও না ।
ভ্রূদ্বয়ের মধ্যে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ধ্যানের সহিত ব্যাপক ব্রহ্মের ধ্যান করিতে থাকিলে তাহার দ্বারাই কুণ্ডলিনী শক্তি ধীরে ধীরে ঊর্দ্ধগামী হয়। শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণকেই পরমাত্মা পরব্রহ্ম বলিয়া জানিবে । তিনি সর্ব্বব্যাপী অদ্বৈত অখণ্ড চিদানন্দ স্বরূপ হইয়াও ভক্তদের ধ্যানের সুবিধার জন্য সুচিন্ত্য বিগ্রহ ধারণ করিয়াছেন । এইরূপ ধারণা করিয়া জাগতিক সমস্ত বস্তু– মাতা, পিতা, স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদি, আত্মীয়স্বজন এবং অন্য সমস্ত ঘরবাড়ী, ইটপাথর, বৃক্ষ, লতাপাতা, পশুপক্ষী, কীটপতঙ্গ, মনুষ্য, দেবতাদি সমস্তই তাঁহার রূপ, – তিনি ভিন্ন জগতে কিছুই নাই, এইরূপ জ্ঞান করিতে অভ্যাস করাকেই সর্ব্বব্যাপী ব্রহ্মের ধ্যান বলা হয়। বিচার করিয়াও দেখ – তোমার মাতাপিতা, স্ত্রী, সন্তানাদির মধ্যে এক বস্তু বর্ত্তমান থাকায় সকলের সহিত তোমার সম্বন্ধ আছে । তিনি একসঙ্গে তাঁহাদের সকলের মধ্য হইতে বাহির হইয়া গেলে সব শরীরগুলি পচিয়া মাটিতে মিশিয়া যাইবে অথবা পুড়াইয়া ফেলিবে, তখন আর কাহারও‌ সহিত কিছু সম্বন্ধ থাকিবে না । এইরূপ বিশ্বসংসারের সমস্ত বস্তু হইতে একসঙ্গে তিনি বাহির হইয়া গেলে মহাপ্রলয় হইয়া যাইবে । অতএব সেই এক বস্তুর স্থিতিতেই এই জগতের স্থিতি জানিয়া প্রকাশিত সমস্ত জগৎ তাঁহারই রূপ এইরূপ জ্ঞান করিতে অভ্যাস করিবে এবং সমস্তই তিনি হওয়ায় সকলকে মনে মনে প্রণাম করিতে ও হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রোধাদি পরিত্যাগ করিয়া শান্তচিত্তে অবস্থান করিতে অভ্যাস করিবে। ইহাতেই চিত্ত নির্ম্মল হইতে থাকিবে। আমার শ্রীগুরুদেব ব্যাপক ব্রহ্মের ধ্যান বিষয়ে এক পত্র লিখিয়াছিলেন তাহা ১ম খণ্ড পত্রাবলীর শেষ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত আছে। যথা :- “অনন্ত জীব সমন্বিত এই ব্রহ্মাণ্ড সমস্তই ব্রহ্ম ; তিনি অনন্ত শক্তিমান , সেই অনন্ত শক্তির দ্বারা তিনি অনন্ত জীবময় বিশ্বরূপ ধারণ করিয়াছেন । তুমি, আমি অথবা অপর কেহ তাঁহা হইতে ভিন্ন নহে; তিনিই এই নানারূপে ক্রীড়া করিতেছেন। ইহাই সার সত্য জানিবে। শ্রুতি স্বয়ং এবং ব্রহ্মবাদী ঋষিগণ সকলে এক বাক্যে ইহা প্রকাশ করিয়াছেন, এই বিষয়ে তুমি কিছু সন্দেহ করিও না, ইহা অনুভব করিতে সদা যত্ন করিবে। এই যত্নে সকল ঋষিকুল তোমার সহায়কারী হইবেন।”
যুগলমূর্ত্তির ধ্যানের সঙ্গে এই সর্ব্বব্যাপী ব্রহ্মের চিন্তা করিয়া নিজেকেও তাঁহার অঙ্গীভূত জ্ঞান করিতে হয়, শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের মূর্ত্তিও সেই সর্ব্বব্যাপী ব্রহ্মের অঙ্গীভূতরূপে প্রকাশিত। এই রূপ ধ্যান যত অভ্যাস হইতে থাকিবে ততই আনন্দ পাইতে থাকিবে।
পত্রে আর অধিক লেখা যায় না, সাক্ষাৎ হইলে তখন ভাল করিয়া বুঝিয়া লইবে। এখন লিখিতমত যথাসাধ্য অভ্যাস করিবে, ইহা করিতে পারিলে তবে ব্রহ্মধ্যানের প্রারম্ভ হইবে।
…অত্র মঙ্গল ।
ইতি–
‌আশির্ব্বাদক
শ্রীধনঞ্জয়দাস

অনুলিখন – শ্রী বিশ্বনাথ রায়

Vani Manjari

A person living a worldly life, but exclusively absorbed in the thoughts of divine all the time, to him Lord comes down personally-to provide for what he lacks and protect what he already has. Likewise for a yogi treading the path of renunciation with equipoise and unwavering determination, upon Him Lord bestows suitable spiritual riches and also help him uphold all his possessions divine.